অভয়নগরে ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা। গত ১৭ দিনের ব্যবধানে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মডেল কলেজের পাশে জুয়েল হোসেনের পুত্র ২৩ বছরের যুবক সোহেল হোসেন এবং একই ওয়ার্ডের কামরুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী জোসনা বেগম (৪৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ১৬ জুন জোসনা বেগম এবং এর ১৭ দিনের মাথায় ৩ জুলাই সোহেলের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, জোসনা বেগমের ডেঙ্গু শনাক্তের পর তাকে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি জোসনা বেগমের। অপরদিকে সোহেল হোসেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে নওয়াপাড়ায় আসে। তাকে অভয়নগর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবার। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে মারা যান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮২ জন ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে এপ্রিলে ১৮ জন, মে মাসে ৩১, জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জন এবং ২২ জুলাই তারিখ পর্যন্ত ৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ২৯ জুলাই বুধবার পর্যন্ত এক মাসে ভর্তি হয়েছেন ১১৬ জন রোগী, যা অত্যন্ত হতাশা ব্যঞ্জক। প্রতিদিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচজন রোগী ভর্তি হয় অভয়নগর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যাদের জটিল অবস্থা হয় তারা চলে যায় যশোর খুলনা বা ঢাকাতে। তাদের হিসাব অভয়নগরে নেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অভয়নগরে আতঙ্কে সৃষ্টি হয়েছে। ডেঙ্গু ঝুঁকিতে এখন অভয়নগর। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযানেও নেমেছে বলে জানা গেছে, তবে সব প্রতিষ্ঠানে এই দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়নি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খায়রুল বাসার বলেন, আমরা অভয়নগরে আর মৃত্যু দেখতে চাই না। প্রতি শুক্রবারে যার যার বাড়িতে এবং বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়, ডোবা, ফুলের টপ, এসির ট্রে এবং যেখানে যেখানে পানি জমে থাকে সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এডিস মশায় ডিম পাড়তে পারে যে সমস্ত জায়গাতে সেসব জায়গায় ওষুধ ছিটাতে হবে এবং লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। তিনি জনসচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
অভয়নগর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার আলিমুল রাজীব বলেন, সচেতনতার বিকল্প নেই। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে প্রত্যেকটা নাগরিকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জ্বরে আক্রান্ত হলে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পরীক্ষা করতে হবে, মশারি টাঙিয়ে শুতে হবে, ঘরবাড়ি ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং নারিকেলের খানা, নারিকেলের মালা, ভাঙা পাতিল, টায়ার, ফুলের টপ, এসির ট্রে সহ যেসব জায়গায় বদ্ধ পানিতে এডিস মশা ডিম ছাড়তে পারে বা বংশ বিস্তার করতে পারে, সেই জায়গাগুলি পরিষ্কার রাখতে হবে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
খুলনা গেজেট/এএজে

